তিতাস (কুমিল্লা):
তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের এক জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ মোঃ আব্দুল হালিম। তিনি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ীই নন, বরং একাধারে মানবসেবায় নিবেদিত একজন সমাজকর্মী এবং শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের ভেতর এবং বিদেশে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব সাফল্যের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি স্থানীয়ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিনা স্বার্থে—স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, মাহফিল, হাসপাতাল এবং অসহায় মানুষদের জন্য করেছেন নীরব অবদান।
শিক্ষাঙ্গনে অবদান:
মজিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি পরপর দুই মেয়াদে (৮ বছর) দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তার নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয় করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন, এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখেন। বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন নিঃস্বার্থ অভিভাবকতুল্য চরিত্র।
তৃতীয়বার সভাপতি প্রস্তাবেও বাধা রাজনীতির কারণে:
২০২৪ সালে যখন তৃতীয়বারের মতো তাকে বিদ্যালয়ের সভাপতি করার প্রস্তাব আসে, তখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর সাহেব অকপটে স্বীকার করেন—“আবদুল হালিম একজন সৎ, সমাজসেবী ও শিক্ষাঙ্গনের নিবেদিত প্রাণ, তিনি সকলের প্রিয় মানুষ।”
কিন্তু একই সাথে তিনি বলেন, “সমস্যা একটাই—তিনি বিএনপির লোক। তাই সভাপতি বানানো যাবে না।”
এই বক্তব্য রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উন্মোচন করলেও একজন সৎ, নির্লোভ ও কর্মবীর সমাজসেবককে শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পেছনে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনীতিতে নিঃস্বার্থ ভূমিকা:
আবদুল হালিম বলেন, “আমি ব্যবসা করি, জীবিকা সেখান থেকেই। কিন্তু রাজনীতি করি ভালোবাসা থেকে। বিএনপির দুঃসময়ে আমি দলের পাশে থেকেছি, সাহায্য করেছি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী। পদ-পদবীর জন্য নয়, দেশ ও দলের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই কাজ করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি আমাকে নিয়ে ফেসবুকে একটি ছবি ভাইরাল করা হচ্ছে, যেখানে আমি সাবেক এমপি সেলিমা আহমেদ মেরীকে ফুল দিচ্ছি। সেই সময় আমি বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম এবং সরকারি অনুষ্ঠানে আমাকে ডাকা হয়েছিল। ফুল দেওয়াটা ছিল শিষ্টাচার ও উপস্থিত সবার সম্মতিতে। এটিকে বিকৃত করে আমার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা খুবই দুঃখজনক।”
জনমতের প্রতিফলন:
বহু সাধারণ মানুষ মনে করেন, রাজনীতিতে এমন নির্ভরযোগ্য, সমাজসচেতন, ও নিবেদিত মানুষদের উপেক্ষা করা হলে বিএনপির মতো দল মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, হালিম সাহেবের মতো মানুষেরা শুধু অর্থ দিয়ে নয়, বরং ভালোবাসা, সময়, শ্রম ও নীতি দিয়ে দলকে সুসংগঠিত রাখেন। অথচ তাদেরকে সম্মান না দিলে বা পাশে না রাখলে তা দলের জন্য বেমানান ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।
উপসংহার:
আবদুল হালিম একজন ব্যতিক্রমী মানুষ, যিনি রাজনীতিকে ব্যবহার করেননি—বরং ভালোবেসেছেন। আর ভালোবাসা থেকেই তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে আছেন। এমন ব্যক্তির মূল্যায়ন না হলে, তিতাসের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে বড় একটি শূন্যতা তৈরি হবে—যা পূরণ করা কঠিন হবে।